‘কে আমাকে নিয়ে ভালো বলল, কে খারাপ, সেদিকে মনোযোগ দিই না’

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নাজমুল হোসেনের সঙ্গী সমালোচনা। কঠিন সেসব দিন এখন অনেকটাই পেরিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশ দলকে তিন সংস্করণে দিয়েছেন নেতৃত্ব, এখন যদিও শুধু টেস্ট অধিনায়ক। এই সংস্করণে ব্যাট হাতে দলের বড় ভরসাও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলেই যেমন দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছেন।  

বাংলাদেশের আর কোনো অধিনায়কেরই এমন কীর্তি নেই। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুমিনুল হকেরও টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি আছে (২০১৮ সালে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে)। তবে দুটি ম্যাচে জোড়া সেঞ্চুরি শুধু নাজমুলেরই। আজ গলে ড্র টেস্টে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তাঁর হাতে। ম্যাচ শেষের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে নাজমুলকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—খারাপ করলে যতটা সমালোচনার মুখে পড়েন, ভালো করলে কি ততটা কৃতিত্ব পান?

উত্তরে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বলেছেন, ‘কে আমাকে নিয়ে অনেক ভালো কথা বলল বা খুব খারাপ কথা বলল—খুব বেশি ওদিকে ফোকাস না করে আমি চেষ্টা করি যে আসলে কীভাবে প্রতিদিন ভালো করতে পারি। কোনো দিন হয়, কোনো দিন হয় না; এই খেলাটাই এমন। কিন্তু আসলে কে অনেক বেশি অ্যাপ্রিশিয়েট করল বা কে করল না বা আমি আরেকটু বেশি কি ডিজার্ভ করি, না করি (এসব নিয়ে ভাবি না)।’

নিজের জন্য এ নিয়ে একটা মন্ত্রও আলাদা করে ঠিক আছে নাজমুলের, ‘বেশি প্রত্যাশা না থাকাই ভালো। আমার ব্যাটিংটা আমি উপভোগ করছি কি না, দলের হয়ে অবদান রাখতে পারছি কি না, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রশংসা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়, এ জায়গায় আসলে আমার বাড়তি কোনো চাওয়া নাই এবং আমি কোনো প্রত্যাশা রাখি না।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর আগে হয়েছে প্রস্তুতি ক্যাম্পও। এই সময়ে নিজের ব্যাটিংয়ে নাকি কিছু পরিবর্তন এনেছেন নাজমুল। সেটিই তাঁকে গল টেস্টে এনে দিয়েছে সাফল্য। যদিও কী বদল এনেছেন, তা তিনি খোলাসা করেননি।

নাজমুল বলেছেন, ‘এখানে আসার আগে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। ব্যাটিংয়ে কিছু টেকনিক্যাল বিষয় বদলেছি। কারণ, আমি কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষ নিয়ে জানতাম। আমার ওই পরিকল্পনাটা ছিল। আমি এটা এখন বলতে চাই, কারণ এখনো এক ম্যাচ বাকি। আমার ভালো পরিকল্পনা ছিল এই টেস্টের আগে। আমি খুবই পরিষ্কার ছিলাম কী করতে চাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *